সব পক্ষের বিরোধীতার পরেও ইভিএমেই ভোট!

২২ আগস্ট,২০২২

সব পক্ষের বিরোধীতার পরেও ইভিএমেই ভোট!

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপে আওয়ামীলীগ ছাড়া তাদের মিত্রপক্ষগুলোও ইভিএমের বিরোধীতা করেছে। আর আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা প্রকাশ্যেই বলছেন যেখানে টিপ দিক ভোট নৌকায় যোগ হবে। এরপরেও দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ইভিএম। বিশ্লেষকদের মতে, নিয়ন্ত্রিত এ মেশিনে ইসি যেভাবে চাইবে সেভাবে ফলাফল প্রকাশিত হবে। খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইভিএমের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।

এতোকিছুর পরেও এখন আবার সেই ইভিএমেই ভোট গ্রহনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কমিশন। তাও আবার দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের নির্ধারক সংসদ নির্বাচনে।

রোববার নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। তবে কতগুলো আসনে ইভিএম হবে সেই বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ইসি তার সক্ষমতা ও যৌক্তিকতা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসনে ইভিএম ব্যবহার করবে। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

যদিও সংলাপে অংশ নেওয়া জাতীয় পার্টিসহ ১৫টি রাজনৈতিক দল এ মেশিন ব্যবহারের বিরোধিতা করেছে। সংলাপে অংশ নেয়নি বিএনপিসহ এমন ৯টি দলও এ মেশিনে ভোটগ্রহণের বিরোধিতা করে আসছে। তবে আওয়ামী লীগসহ ১১টি রাজনৈতিক দল ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে মত দেয়। এছাড়া ভোটে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গত ১১ আগস্ট কমিশন সভা ডাকা হয়েছিল। কিন্তু পরে তা স্থগিত করা হয়। কমিশন সভা ছাড়াই নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর ইভিএম ব্যবহারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানালেন।

তার এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ইভিএম জালিয়াতির মেশিন। এ মেশিনে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে না। নিয়ন্ত্রিত এ মেশিনে ইসি যেভাবে চাইবে সেভাবে ফলাফল প্রকাশিত হবে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু ভোটগ্রহণে ইসি যে আন্তরিক নয়, এ সিদ্ধান্ত তারই প্রমাণ। ইভিএম কারিগরি কমিটির প্রধান প্রয়াত অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীও এ মেশিন কেনার পক্ষে সই করেননি। ইসি কী অস্বীকার করতে পারবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জালিয়াতি করে দুই ধরনের ফল ঘোষণা করা হয়নি। প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে যে এ মেশিনের ফল পালটানো যায় ইসি কি তা অস্বীকার করবে? তাহলে তারা কীভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিলেন-প্রশ্ন রাখেন তিনি।

কোনো দলের পরামর্শে জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হচ্ছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে মো. আলমগীর বলেন, আমরা কারও মুখের দিকে তাকিয়ে সিদ্ধান্ত নেব না। আমরা একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর ভোট করার জন্য সক্ষমতা ও ইভিএমের সুবিধা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেব। তিনি বলেন, অনেকগুলো রাজনৈতিক দল ৩০০ আসনে ইভিএমে ভোট চায়। আবার কোনো কোনো দল একটি আসনেও ইভিএম চায় না। আমরা তো সবার কথা সমানভাবে গুরুত্ব দিতে পারব না। আমরা আমাদের সক্ষমতা ও ইভিএমের যৌক্তিকতার ওপর গুরুত্ব দেব।

বিএনপি ও জাতীয় পার্টি ইভিএমের বিপক্ষে মত দিয়েছে-এ বিষয়ে ইসির অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা কেন ইভিএমের বিপক্ষে বলেছেন সেটা আমরা বলতে পারব না। রাজনৈতিক ব্যাপার তো খোলাসা করে বলবে না, রাজনৈতিক কৌশল থাকতে পারে। আর বিএনপি তো আমাদের আলোচনায় আসেনি। ইভিএম নিয়ে তারা যেটা প্রচার করে সেটার প্রমাণ দিতে বলেছিলাম তাও দেয়নি। আপনি যখন আদালতে এসে সাক্ষী দেবেন না, প্রমাণ দেবেন না, সেখানে আমরা কতটুকুই বা গুরুত্ব দিতে পারি? তাদের তো ক্লিয়ার করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইভিএমের অসুবিধার চেয়ে সুবিধা বেশি। ইভিএমের কারচুপি নিয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে নির্বাচন কমিশন তা প্রমাণে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেও কেউ সেটা প্রমাণ করতে আসেনি। বিএনপি ইভিএম নিয়ে অভিযোগ তুললেও তারা সংলাপে এসে বা অন্য কোনোভাবে ইসির কাছে লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ না দেওয়ায় তা আমলে নেওয়া হয়নি। অপরদিকে অন্য দলের মধ্যে যারা ইসিতে গিয়ে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ দিয়েছে তা যাচাই করা হচ্ছে।

ইভিএমে ভোট কম পড়া ও কারচুপির অভিযোগ অপপ্রচার দাবি করে মো. আলমগীর বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৮০ শতাংশের ভোট পড়েছে। তিনি বলেন, আপনি আমাকে বলবেন আমি খারাপ। এর তো প্রমাণ দিতে হবে। না হলে আমি খারাপ হিসেবে গণ্য হবো কেন? তার মানে এটা অপপ্রচার। যতক্ষণ না আপনি প্রমাণ দেবেন ইভিএমে ভোট কারচুপি করা যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত তো আমি এটা বিশ্বাস করব না। কারচুপির বিষয়টি হচ্ছে অভিযোগ কিন্তু প্রমাণিত নয়। যারা অভিযোগ দিয়েছেন সেগুলো আমরা যাচাই করছি। কিন্তু যারা আমাদের কাছে এসে অভিযোগ দেননি সেটা তো আমরা আমলে নেইনি।

ইভিএমের সুবিধা-অসুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যালটে ভোটগ্রহণ করে সারারাত ধরে ভোট গণনা করবেন। একবার ভুল হবে দশবার গণনা করবেন। ইভিএমে এসব ঝামেলা নেই। এতে অনেকগুলো সুবিধা আছে। আবার অসুবিধা আছে অনেকের আঙুলের ছাপ মেলে না। যাদের আঙুলের ছাপ মেলে না তাদের জন্য তো একটি পদ্ধতি আছে। অনেকে বিশেষ করে বয়স্করা কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তা বুঝে উঠতে পারেন না। মেশিন দেখে তারা ঘাবড়িয়ে যান। অনেক সময় মনে হয় এটা স্লো। তবে আসলে মেশিনটা স্লো নয়। যারা জানেন তাদের ভোট দিতে ১৫ সেকেন্ড লাগে। এতে একজনের ভোট অন্যজন দিয়ে দিতে পারে না। ব্যালটে যেমন একজনের ভোট আরেকজন দিতে পারে। ইভিএমে সেই সুযোগ নেই।

কতটি আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে মো. আলমগীর বলেন, ইভিএম ব্যবহার হবে। কিন্তু কত আসনে হবে সেই বিষয়ে আমরা এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। এটা নিয়ে আমরা মতবিনিময় করছি। আলোচনা করছি। আমাদের সক্ষমতা কী, কত ইভিএম আছে। আমাদের প্রশিক্ষিত জনবল কত আছে? সাপোর্টিং জনবল কত আছে? এগুলো দেখছি। এগুলো দিয়ে কত আসনে ভোট করা যাবে তা দেখা হচ্ছে। আরও যদি বেশি করতে চাই। আরও কত (ইভিএম মেশিন) লাগবে। তাতে কত টাকা লাগবে। এজন্য নতুন প্রজেক্ট নিতে হবে কিনা? সেই সময় আমাদের আছে কিনা? এসব বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে।

মন্তব্য

মতামত দিন

রাজনীতি পাতার আরো খবর

ইভিএমের ইন্টারনাল মেকানিজমে হেরেছি: তৈমুর

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার বলেছেন, ইলেক . . . বিস্তারিত

‘কাকা’কে সঙ্গে নিয়েই চলবেন আইভী

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে জয়ী হতে চলা সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, সামনের দ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 

ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com