রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর, রাজনীতিতে নতুন মোড়

২৩ আগস্ট,২০২২

রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর, রাজনীতিতে নতুন মোড়

নিউজ ডেস্ক
আরটিএনএন
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভারতের হস্তক্ষেপ নিয়ে চরম উত্তেজনার মধ্যে আগামী ৫ই সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় নির্বাচনের এক বছর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে ওই সফরটি নানা কারণে তাৎপর্যপূর্ণ।

পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি নতুন মোড় নিতে পারে। পেশাদার কূটনীতিকদের মতে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বোঝাপড়া, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতি, যুদ্ধ-সংঘাতের কারণে জ্বালানি সহ নিত্যপণ্যের সরবরাহে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকট এবং বাংলাদেশ ও ভারতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সফরটিতে বাড়তি মাত্রা যুক্ত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে যা যা করা দরকার সেটি করতে ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছেন মর্মে সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন যে বক্তব্য দিয়েছেন তা নানাভাবে আলোচিত হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রীর ওই বক্তব্য দেয়ার একদিন পর ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী এক অনুষ্ঠানে বলেন, ভারত সব সময় বাংলাদেশের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে এ দুটি বক্তব্যও আলোচিত হচ্ছে কূটনৈতিক অঙ্গনে। সরকার প্রধানের সফরের এডভান্স টিম এরইমধ্যে দিল্লি ঘুরে এসেছে।

সেগুনবাগিচার পররাষ্ট্র ভবন এবং রমনার রাষ্ট্রাচার প্রধানের দপ্তরে প্রায় প্রতিদিনই সফরের খুঁটিনাটি নিয়ে বৈঠক হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ওই সফর প্রস্তুতিতে যেন কোনো ঘাটতি না হয় এ জন্য নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য মতে, প্রায় ৩ বছর বিরতির পর পূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী ভারতে যাচ্ছেন।

ওই সফরে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দুই বন্ধু রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যকার মুখোমুখি বৈঠক হবে। সেখানে নিশ্চিতভাবে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে কথা হবে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সম্পর্কের ‘ভুল বোঝাবুঝি’ নিরসনের চেষ্টা হবে। অর্থনৈতিক এবং সামরিক খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। এছাড়া বাংলাদেশের আগামী দিনের নেতৃত্ব নিয়ে ঢাকায় যে জল্পনা-কল্পনা চলছে তা আলোচনায় থাকলেও থাকতে পারে।

২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক একটি ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টের প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছিল জানিয়ে ওই রিপোর্টে বলা হয়, আগামী ৫ থেকে ৮ই সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা আপগ্রেড করা হবে এবং দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত প্রস্তাবিত চুক্তিটি সই হতে পারে। রিপোর্টে বলা হয়, ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ ভারত সফরে মহাকাশ গবেষণা, সাইবার নিরাপত্তা, সুনীল অর্থনীতি এবং পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে পারস্পরিক সহযোগিতা গভীর করার আলোচনা হয়েছিল। ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের রিপোর্টে বলা হয়, ক’বছর ধরে ঢাকার কাছে সামরিক সরঞ্জামাদি বিক্রি নিয়ে আলোচনা করছে নয়াদিল্লি।

কিন্তু এর সংবেদনশীলতা অনুধাবন করে সেই প্রস্তাবে পরিবর্তন এনেছে ভারত। ওই বিশ্লেষকের মতে, এখন এটি একটি ভালো উদ্যোগ হতে পারে যদি নয়াদিল্লি ঢাকার প্রয়োজন বিবেচনায় সামরিক হার্ডওয়্যার বা সরঞ্জামাদির যৌথ উৎপাদনে সম্মত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের আগে দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা সংলাপে ওই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রিপোর্ট বলছে, ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ পান্ডের ঢাকা সফরে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব, তাই ভারতীয় সেনাপ্রধান তার সঙ্গে দেখা করেছেন। বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের আসন্ন দিল্লি সফরে দুই বিশ্বস্ত প্রতিবেশীর পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং বর্ধিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ে ঐকমত্য হতে পারে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন সফর বাস্তবায়নে ভারতের তৎপরতা নিয়ে দিল্লি ডেটলাইনে ঢাকায় প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, আগামী বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তার আগে এটিই হবে শেখ হাসিনার শেষ ভারত সফর। সঙ্গত কারণে এই সফরের দিকে উদগ্রীব হয়ে তাকিয়ে রয়েছে দিল্লি। এই সফরকে ফলপ্রসূ করে তুলতে ভারত ও বাংলাদেশ; দুইপক্ষেই কূটনৈতিক তৎপরতা রয়েছে তুঙ্গে। সফরের নানা লজিস্টিক্যাল খুঁটিনাটি এই মুহূর্তে চূড়ান্ত করছেন তারা।

শেখ হাসিনা এই ‘আমন্ত্রণ’ জানানোর পর কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকেও পশ্চিমবঙ্গকে বার্তা পাঠানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী যদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় দিল্লিতে আসেন তা খুবই ইতিবাচক একটা সংকেত দেবে। তিস্তার মতো যেসব অমীমাংসিত বিষয় মমতা ব্যানার্জির বাধায় আটকে আছে বলে ধারণা করা হয়, সেগুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে সরাসরি ও খোলামেলা কথাবার্তা হোক, এটা আসলে দিল্লিও চাইছে। মমতা ব্যানার্জি হয়তো দিল্লিতে নিশ্চিতভাবেই আসতেন, কিন্তু ইতিমধ্যে সিবিআই বা ইডি’র মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলো রাজ্যে তার দলের নেতাদের বিরুদ্ধে যে লাগাতার অভিযান শুরু করেছে, তাতেই বিষয়টা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

পার্থ চ্যাটার্জি বা অনুব্রত মণ্ডলের মতো তৃণমূলের প্রথম সারির নেতারা এখন গ্রেপ্তার হয়ে জেলে। আর মমতা ব্যানার্জির দল এটাকে নরেন্দ্র মোদি সরকারের ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণতা’ বলেই দাবি করছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুরোধে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের স্বার্থে মমতা ব্যানার্জি আদৌ সে সময় দিল্লি আসবেন কিনা, সেটাও বিরাট প্রশ্ন।

মন্তব্য

মতামত দিন

রাজনীতি পাতার আরো খবর

ইভিএমের ইন্টারনাল মেকানিজমে হেরেছি: তৈমুর

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার বলেছেন, ইলেক . . . বিস্তারিত

‘কাকা’কে সঙ্গে নিয়েই চলবেন আইভী

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে জয়ী হতে চলা সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, সামনের দ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 

ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com